ভিশন : কল্যাণমুখী আইন প্রণয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
• বিচার প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন ও মামলার জট নিরসন : মামলার জট কমাতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
• বিচারক নিয়োগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন : বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারক নিয়োগ করা হবে।
• স্বতন্ত্র প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা গঠন : বিদ্যমান প্রসিকিউশন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষ করার লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস গড়ে তোলা হবে।
• নিবর্তনমূলক ও মানবাধিকার পরিপন্থী আইন সংস্কার : গণ গ্রেফতার, রিমান্ডে নির্যাতন, গুম এবং আয়নাঘরের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
• ধর্মভিত্তিক পার্সোনাল ল’ সংস্কার ও সংরক্ষণ : মুসলিমদের জন্য ইসলামী শরীয়াহর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ স্বতন্ত্র মুসলিম পার্সোনাল ল’ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।। এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে পার্সোনাল ল’ সংক্রান্ত বিশেষ বেঞ্চ স্থাপন করা হবে।
• নারীরা যাতে তাঁদের উত্তরাধিকার সম্পত্তি যথাযতভাবে বুঝে পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।
• পারিবারিক আদালত আইন ও বিধিমালার আধুনিকায়ন : পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ ও পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫-এর বিধিসমূহ সংস্কার করা হবে। আপসমূলক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি কাউন্সিল বা কমিশন গঠনের বিধান যুক্ত করা হবে, যেখানে শিক্ষক, পেশাজীবী, আলেম ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
• বিশেষায়িত আদালত স্থাপন ও সম্প্রসারণ : বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষায়িত আদালত স্থাপন করা হবে। বিচারপ্রার্থীদের সুবিধার্থে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন করা হবে।
• গ্রাম আদালত ও আইনগত সহায়তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন : গ্রাম আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৪ এবং আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ সময়োপযোগী করে সংস্কার করা হবে।
• সাক্ষ্য আইন আধুনিকায়ন : সাক্ষ্য আইন ২০২৪ এর ধারনাপত্র ও খসড়াকে সময়োপযোগী করে আধুনিক বিধান সংযোজন করা হবে।
• পুরাতন আইনসমূহের যুগোপযোগীকরণ : ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি এবং ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধিসহ অন্যান্য পুরাতন আইন যুগোপযোগী করে সংস্কার করা হবে।
• ওয়াকফ ও যাকাতসংক্রান্ত আইন সংস্কার : ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২; ওয়াকফ (সংশোধন) আইন, ২০১৩; ওয়াকফ (সম্পত্তি হস্তান্তর ও উন্নয়ন) বিশেষ বিধান আইন, ২০১৩ এবং যাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ যথাযথভাবে সংস্কার করে ওয়াকফ ও যাকাত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করা হবে।
• দীর্ঘসূত্রিতা পরিহারের জন্য প্রকৃতি অনুযায়ী প্রতিটি মামলার বিচারের জন্য সর্বোচ্চ সময়কাল বেঁধে দেওয়া হবে।
• ইসলামী অর্থনীতি, বীমা (তাকাফুল), ব্যাংকিং খাতের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন ও সংস্কার করা হবে।
• সারা দেশে গরিব ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের আইনি বিষয়ে সহায়তায় থানা পর্যায়ে সরকারিভাবে লিগ্যাল এইড সেল গঠন করা হবে।
• রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ও পুনর্বাসনমূলক (restorative justice) একটি ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে, যেখানে জাতিসংঘের কারিগরি সহায়তা থাকবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গত পনেরো বছরে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলোর সত্য উদ্ঘাটন এবং জাতির জন্য একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করা হবে।