ভিশন : জনবান্ধব এবং কার্যকর জনব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ
• সকল স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা : প্রশাসনের সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতাসহ সুশাসনের (Good Governance) নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
• জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিয়মিত জনতার মুখোমুখি হবেন।
• সকল দপ্তরে অনলাইন অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (Grievance Redress System) চালু করা হবে, যার মাধ্যমে জনগণ সহজে তাদের অভিযোগ জানাতে পারবে। অভিযোগ প্রতিকারের হালনাগাদ অবস্থা বিষয়ক তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
• ডিজিটাল ও এআই (Artificial Intelligence)-ভিত্তিক সেবা : সরকারি সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। সরকারি সেবা সহজ, স্বল্প সময়ে এবং হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা হবে।
• এক ক্লিকেই সরকারি সেবা : একটি কেন্দ্রীয় ই-গভর্ন্যান্স পোর্টাল (যেমন 'MyGov'-এর অনুরূপ) তৈরি করা হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থাকবে এবং সেখান থেকে বহুমাত্রিক সরকারি সেবা ঘরে বসেই এক ক্লিকে পাওয়া যাবে।
• প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি : প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হবে। প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে দক্ষ ও দ্রুতগতির সেবা নিশ্চিত করা হবে।
• দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। সরকারি অফিসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ও সেবাকে শতভাগ অনলাইনে রূপান্তর করা হবে।
• ঘুষ ও তদবির প্রতিরোধ : ঘুষ, লবিং ও তদবির বন্ধে সকল সরকারি লেনদেন সম্পূর্ণ অটোমেটেড ও ডিজিটালাইজড করা হবে।
• প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। বিশেষভাবে ডিজিটাল ও এআই-ভিত্তিক প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন আনা হবে।
• চাকরি ও বেতন কাঠামো : সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। আগামী অর্থবছর থেকে একটি নতুন ও যুগোপযোগী বেতন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।
• প্রশাসনিক সংস্কার : মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পুনর্গঠনে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে।
• দুর্নীতিগ্রস্ত খাত সংস্কার : প্রশাসনের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট, এনআইডি ও অন্যান্য নাগরিক পরিসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যাপক সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
• নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতিশীলতা : বিসিএসসহ সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
• সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো ফি নেওয়া হবে না। চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দলীয় আনুগত্যে নয়; বরং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে।
• সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মপদ্ধতি পুংখানুপুংখভাবে পর্যালোচনা ও সহজীকরণ করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রদানের ব্যবস্থা করতঃ সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ করা হবে।
• স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারে বিশেষ ব্যবস্থা : স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের জন্য পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC) গঠন করা হবে। ডাক্তার ও শিক্ষকদের জন্য আলাদা পদোন্নতির ব্যবস্থা চালু করা হবে।
• সকল প্রশাসনিক ট্রেনিং ম্যানুয়ালে সুশাসন ও নৈতিকতার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।