Cholo Bangladesh
বাংলা
ENGLISH
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬
নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের নির্বাচনী ইশতেহার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
দ্বিতীয় ভাগ : আত্মনির্ভরতার পথে নিজ পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয়
তৃতীয় ভাগ : টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাপকভিত্তিতে কর্মসংস্থান
চতুর্থ ভাগ : স্বনির্ভর কৃষি ও প্রকৃতির স্বাভাবিক বিকাশের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন
পঞ্চম ভাগ : মানবসম্পদ ও জনজীবনের মৌলিক মানোন্নয়ন
সপ্তম ভাগ : যুবকদের নেতৃত্বে প্রযুক্তি বিপ্লব ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
মাথা উচু করে দাঁড়ানোর অর্থনীতি

ভিশন : বিশ্বের ৩৫তম অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০তম-এ উন্নীতকরণ

• আমরা ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দুই ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার স্বপ্ন দেখি, যেখানে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১০ হাজার ডলার। এজন্য প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, আইসিটি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আর্থিক খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

• অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ক্রমান্বয়ে ৭ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

• প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সকল পদ্ধতিগত জটিলতা দূর করার মাধ্যমে বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হবে।

• বিনিয়োগকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ইনভেস্টমেন্ট বন্ড মার্কেট গড়ে তোলা হবে।

• প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার, সহজীকরণ এবং করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ জিডিপির ১৪ শতাংশে উন্নীত করা হবে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস করা হবে।

• রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগসহ মোট ব্যয় জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

• নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রা সহজ করার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করা হবে।

• বাজেট ঘাটতি যাতে কোনোক্রমেই জিডিপির ৫ শতাংশ অতিক্রম না করে তা নিশ্চিত করা হবে।

• সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

• করপোরেট ট্যাক্স (corporate tax) পর্যায়ক্রমে ২০%-এর নিচে নামিয়ে আনা হবে।

• বর্ধিত রাজস্ব অগ্রাধিকার খাতসমূহে যেমন : শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, গৃহায়ণ, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যোগাযোগ অবকাঠামো/পরিবহন খাতে ব্যয় করা হবে।

• দুর্নীতি, অপচয় ও অদক্ষতা দূর করে সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধির সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে।

• কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্বশাসন ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে।

• ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের খেলাপি ঋণ দ্রুততম সময়ে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনাসহ আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আর্থিক খাত সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে।

• বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

• বিদ্যমান মুদ্রা পাচার আইনসহ আর্থিক খাতের অন্যান্য আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে।

• শেয়ার বাজারে সকল প্রকার অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আস্থাহীনতা দূর করে শেয়ার বাজারকে গতিশীল ও কার্যকর করা হবে। শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

• রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা হবে। এ লক্ষ্যে অ্যাডভান্সড টেক্সটাইল, চামড়া, পাট, ফ্রিল্যান্সিংসহ আইটি সার্ভিস ও এগ্রো প্রসেসিং খাতকে আধুনিকায়ন করা হবে।

• প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (Foreign Direct Investment-FDI) বৃদ্ধির বাঁধাসমূহ অপসারণ করা হবে এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Global Supply Chain) -এ কার্যকর অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

• রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান/কোম্পানিসমূহকে লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষম প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর এবং অলাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্থলে প্রয়োজনে অন্যান্য শিল্প স্থাপন করা হবে।

• জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে।

• সরকারি সম্পদের অপচয়, অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ ও value for money নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক সুচর্চার (International Best Practice) আলোকে সংস্কার ও শক্তিশালী করা হবে।

• দুর্নীতিরোধে সরকারি ক্রয় ও টেন্ডারে স্মার্ট কন্ট্রাক্টভিত্তিক স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

• কাস্টমস ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন, ফ্যাক্টরি-গেট কন্টেইনার সিলিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।

• খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনায় শিল্প, প্রযুক্তি এবং কৃষিক্ষেত্রে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে প্রাধান্য দিয়ে কর্মসংস্থান নীতি গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি Employment and Entrepreneur Ecosystem গড়ে তোলা হবে।

• দেশের সমগ্র বেকার জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকে গতিশীল করার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়’ নামে মন্ত্রণালয় এবং ‘কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’ নামে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হবে।

• `কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’-এর আওতায় প্রত্যেক জেলায় জেলা কর্মসংস্থান অফিস এবং প্রত্যেক উপজেলা ও মেট্রোপলিটান এলাকার থানাসমূহে ‘থানা কর্মসংস্থান অফিস’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

• হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য কর্মবীমার (Employment Insurance) পরিধি বাড়ানো হবে।

• বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রত্যাশীদেরকে যে সকল ট্রেডে উচ্চ বেতনে চাকরির সুযোগ রয়েছে সে সকল ট্রেডে প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।

• কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে এসএমইকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অর্থায়ন ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, কর প্রণোদনা, দক্ষতা উন্নয়ন ও বাজারসংযোগের মাধ্যমে বিশেষত তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হবে।

• সুনীল অর্থনীতি (Blue Economy) : বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে মৎস্যসম্পদ, জ্বালানি, বন্দর, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নীল পর্যটনকে টেকসই ও আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সুনীল অর্থনীতি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

• রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যাকাত সংগ্রহ ও সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্টিকে স্বাবলম্বী করে দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা হবে।

• বাংলাদেশে সফল ইসলামী ব্যাংক ও বীমা খাতের বিকাশে সহায়তা করা হবে।

• কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপনের মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্য সংক্রান্ত আইনি জটিলতার দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।

• পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ যাতে সঠিক তথ্য দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন খাতের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে; তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বানানো ও অতিরঞ্জিত তথ্য ভবিষ্যতে না দেওয়া হয় তার ব্যবস্থা করা হবে। সংগৃহীত তথ্য যেন সরকারের অন্য দপ্তরের সাথে ইন্টার-অপারেবল (Interoperable) হয়, সে ব্যবস্থা করা হবে।