ভিশন : স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার
· হাতের নাগালে, কম খরচে, উন্নত মানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।
· ৫ বছরের নিচে ও ৬০ বছরের ওপরে সবাইকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হবে।
· প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বর্তমান সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা যোগ্যতার শতভাগে উন্নীত করা হবে। এর জন্য ব্যবস্থাবিধির উন্নয়ন, যন্ত্রপাতির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, সকল পর্যায়ের সেবা প্রদানকারী (চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য কর্মীদের) উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
· সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা (National Health Insurance) এবং ডিজিটাল হেলথ কার্ড চালু করা হবে।
· স্বাস্থ্যখাতে বাজেট পর্যায়ক্রমে তিনগুণ করা হবে।
· চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী-রোগীর অনুপাত আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে।
· দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টসহ সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ প্রদান করা হবে।
· উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে রাজধানীকেন্দ্রিক চাপ কমানো ও মানুষের ভোগান্তি ও খরচ কমানো হবে। জেলা এবং উপজেলায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হবে।
· সকল জেলায় পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে, যাতে করে দেশের মানুষ নিজ জেলায় পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা পায়। প্রতিটি জেলা সদর সরকারি হাসপাতালে যথাযথ সরঞ্জাম ও জনবলসহ কমপক্ষে ০৫ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, আইসিইউ (ICU), সিসিইউ (CCU) স্থাপন করা হবে।
· ইউনিয়ন এবং গ্রাম পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে রেজিস্টার্ড স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ওষুধ সরবরাহ করা হবে। শহরে/সিটি কর্পোরেশনের অধীনে প্রতিটি ওয়ার্ডে নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র (জিপি সেন্টার) কার্যকর করা হবে। সকল পর্যায়ে রেফারেল সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
· প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টেলিমেডিসিন এবং রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে।
· স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি নির্মূল করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবাসহ সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সব আর্থিক আয়-ব্যয় পাবলিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ক্রয় প্রক্রিয়ায় ই-জিপি চালু করা হবে।
· সকল হাসপাতালে নারী এবং শিশু চিকিৎসায় অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।
· অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সকল হাসপাতালে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের জন্য হোম কেয়ার, রিহ্যাবিলিটেশন এবং প্যালিয়েটিভ কেয়ার প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
· বাংলাদেশের সকল হাসপাতালে প্রবাসীদের চিকিৎসাসেবা সহজীকরণ করা হবে।
· আইন প্রণয়ন করে এবং মনিটরিংয়ের মাধ্যমে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কমিশন বাণিজ্য এবং উপহার প্রদানের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা লেখানোর অপনিয়ম বন্ধ করা হবে।
· সততা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ক্যাডারদের নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত করা হবে।
· জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দেশের সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে উৎসাহ দেওয়া ও নিশ্চিত করা হবে।
· মানহীন হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সার্বিক মান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সেবা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার সার্বিক মান জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অ্যাক্রেডিটেশনের (BAB, ISO, JCI, NABH) মানে উত্তীর্ণ করা হবে।
· বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অপারেশন করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত/ প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি ও সক্ষমতা আছে কিনা এটা নিশ্চিত করা হবে এবং নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।
· বর্তমানে চালু মানহীন মেডিকেল কলেজগুলোর মানোন্নয়নে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
· মানসম্পন্ন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দ্রুত জনশক্তি নিয়োগ করে বিএমইউ সুপার-স্পেশালাইজড হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে।
· বিএমইউসহ সকল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং গবেষণা ও চিকিৎসায় উৎকর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে।
· বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করা হবে।
· হাসপাতালে রোগী, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
· চিকিৎসায় অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসার অভিযোগ বিএমডিসি আইনের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করে রোগীদের অধিকার সমুন্নত রাখা হবে। বিএমডিসি অফিস বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে স্থাপনের মাধ্যমে সারাদেশে চিকিৎসার মান তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
· হাসপাতালের রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সিরিয়াল, ভর্তি, অপারেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ প্রাপ্তিতে অটোমেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
· ৩০০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ (EML) নিয়ন্ত্রিত এবং ন্যায্য মূল্যে প্রদান করা হবে; ধাপে ধাপে ৫০০টিতে উন্নীত করা হবে।
· হাসপাতালে রোগীদের খাবারের গুণগত মান প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট বিরতিতে অজ্ঞাতনামে (anonymously) পরীক্ষা করা হবে।
· বাংলাদেশে একাধিক আন্তর্জাতিক মানের মডেল হাসপাতাল চালু করে মেডিকেল ট্যুরিজমকে ব্র্যান্ডিং করা হবে। চিকিৎসা সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
· দেশের ‘জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা’র সক্ষমতা এবং সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি করা হবে।
· ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ অসংক্রামক রোগ (NCD) প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
· টিকাদান কর্মসূচিতে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা হবে।
· মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ করে আসক্তি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
· প্রতিটি সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।
· সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (EDCL)-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
· ওষুধ কোম্পানি ও ওষুধগুলোকে গ্রেডেশনের আওতায় আনতে হবে। গ্রেডিং-এর ক্ষেত্রে মেডিসিনের কোয়ালিটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।