কর্মসংস্থান কিভাবে হবে?
দেশের সমগ্র বেকার জনগোষ্টির দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকে গতিশীল করার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়’ নামে মন্ত্রণালয় এবং ‘কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’ নামে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হবে;
কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’ এর আওতায় প্রত্যেক জেলায় জেলা কর্মসংস্থান অফিস এবং প্রত্যেক উপজেলা ও মেট্রোপলিটান এলাকার থানাসমূহে ‘থানা কর্মসংস্থান অফিস’ প্রতিষ্ঠা করা হবে;
খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনায় শিল্প, প্রযুক্তি এবং কৃষিক্ষেত্রে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে প্রাধান্য দিয়ে কর্মসংস্থান নীতি গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি Employment and Entrepreneur Ecosystem গড়ে তোলা হবে।
প্রতিটি যুবকের জন্য সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রায় ৭ কোটি কর্মক্ষম যুবকের জন্য দুই ভাগে কর্মসংস্থান তৈরী করা হবে ( দেশের ভেতরে ও বাইরে) ।
‘দক্ষতা’ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলাভিত্তিক হিউম্যান স্কিল ডেভেলপমেন্ট জোন (SDZ) গঠন করে প্রয়োজনীয় দক্ষতা (যেমন বিদেশি ভাষা, হাতে কলমে কাজ শেখানো) অর্জন থেকে শুরু করে ভিসা প্রদান পর্যন্ত সব খরচ সরকারি ব্যবস্থাপনায় করা হবে।
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীকে বিনা-সুদে প্রথম দুই সেমিস্টার ফি সরকার প্রধান করবে।
স্নাতক পর্যায়ে (বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা) ১ লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে মাসে দশ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কর্জে হাসানা (সুদ-মুক্ত ঋণ) দেয়া হবে।
অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান লক্ষ্য : আইসিটির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি এবং ২০ লক্ষ কর্মসংস্থান এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি এবং আরো ২০ লক্ষ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হবে।
‘আমার আয়ে আমার সংসার’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করা হবে। এর জন্য হাঁস-মুরগীর খামার, গবাদি পশু পালন, মাছ চাষ ইত্যাদি প্রকল্প তৈরীতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
বিদ্যমান শিল্পের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সিড ক্যাপিটাল ফান্ড গঠন, ইনোভেশন ইনকিউবেটর তৈরী, কৃষি পন্য প্রসেসিং শিল্পে সহায়তা, আউট সোর্সিং কাজের প্রশিক্ষন, ফ্রি ল্যান্সারদের প্রশিক্ষন, সার্টিফিকেট ও সহজে অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে ডাবল ডিজিট বেকারত্বের হারকে সিংগেল ডিজিটে রুপান্তর করা হবে।
বেকার জনশক্তির যারা প্রবাসে যেতে চায় তাদের জন্য নতুন বাজার অন্বেষন, যথার্থ টেকনিক্যাল প্রশিক্ষন, কম খরচে বিদেশ যাত্রার জন্য আন্তঃসরকার চুক্তি, বিদেশ যেতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বছরে ৫০ লাখ যুবকের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
যেকোনো সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য ফি নেয়ার রীতি বাতিল করা হবে।
চাকরির বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে নিয়োগ পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ বন্ধ করা হবে।
দ্রুত সময়ে নিয়োগ সম্পন্ন করতে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিষেশায়িত ক্যাডারগুলোর পরীক্ষা পৃথক প্রশ্নপত্রে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
ব্যবসায়ী সমাজের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে শ্রমিকদের নুন্যতম মজুরি নির্ধারন করা হবে
বিদেশগামী সকল শ্রমিকদের বিনা খরচে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষিবিদ নিয়োগ করা হবে এবং দুর্গম এলাকায় কাজ করার জন্য প্রণোদনা দেয়া হবে।
চাকরির প্রস্তুতি, বিনামূল্যে বিদেশি ভাষা ও ট্রেইনিং : ইংরেজি, আরবীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভাষা বিনামূল্যে শেখার ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশগামীদের জন্য আঞ্চলিক ও বিভাগীয় টেকনিকেল ট্রেইনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বিসিএসসহ সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। সরকারী চাকুরীতে আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো ফি নেওয়া হবেনা। চাকুরীতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ণ দলীয় আনুগত্যে নয় বরং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে।
স্কুল কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক নিয়োগ পদ্ধতি ও বেতন কাঠামো প্রচলন করা হবে। পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষকদের উচ্চ গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
স্বাস্থ্যখাতে বাজেট পর্যায়ক্রমে তিনগুন করা হবে । চিকিৎসক-রোগী ও নার্স-রোগীর অনুপাত কমানো হবে।
২০৩৫ সালের মধ্যে ঢাকার সন্নিকটে একটি বিশ্বমানের বিমানবন্দর স্থাপন করা হবে। সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত করা হবে।
টুরিজম প্রোডাক্ট তৈরি ও জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে নদীভিত্তিক ও হালাল টুরিজম প্রোডাক্ট তৈরী করা হবে।
পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে হোটেল, রিসোর্ট, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র ও শপিং কেন্দ্র খাতে দেশী বিদেশী বড় বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে।
উচ্চ শিক্ষাকে বিশেষভাবে স্নাতক পর্যায়ের বিষয়গুলোকে চাকরিমুখি কোর্সে রূপান্তর করা হবে যাতে করে ছাত্ররা পাঠক্রম শেষ করেই দেশে ও বিদেশে চাকরীর সুযোগ পায়। চাকরীর বাজারে চাহিদার সাথে সংগতি রেখে বিভিন্ন কোর্স চালু ও পাঠ্যসূচি নিয়মিত আপডেট করা হবে।
প্রত্যেক ছাত্র/ছাত্রী ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাবেন। সকল সরকারী, আধাসরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ ব্যবস্থা চালু করা হবে। ইন্টার্নশিপ শেষে শিক্ষার্থীদের সনদ দেয়া হবে।
বাজারের চাহিদা মাফিক দক্ষতা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখি শিক্ষায় পরিবর্তন করে ব্যবসা প্রতিষ্টান ও কল কারখানায় প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হবে ।
দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সকল সরকারী, আধা সরকারী ও ব্যক্তিখাতের প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কতৃপক্ষ এ কাজে নেতৃত্ব দিবে। সকল ধরনের প্রতিষ্ঠান চাহিদা মাফিক গুণগত মানের প্রশিক্ষন নিশ্চিত করা হবে।
কম শিক্ষিত ও নিরক্ষর কিন্তু সক্ষম ও আগ্রহীদের জন্য ইতিমধ্যে সফল প্রশিক্ষন পদ্ধতি সমূহ ব্যবহার করা হবে (যেমন: ভকেশনাল ট্রেনিং, ওস্তাদ/সাগরেদ পদ্ধতি)। প্রত্যেক প্রশিক্ষণের সাথে Internship এর ব্যবস্থা থাকবে। সম্ভাব্য চাকুরী প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযোগ স্থাপন করা হবে (Placement Service)।
উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং ঋণের জন্য অর্থ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযোগ স্থাপন করে দেয়া হবে।